আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
Bangladesh
M.A. in English Literature under National University. My Home District in Comilla.

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২

মুক্তি মালেক

এই যে চুল-দাঁড়ি পেকে যাওয়া লোকটি দেখছেন,
বড্ড সাহসী,
কাঁধে রাইফেল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রামের পর গ্রাম
মাঝ রাতে অস্ত্রের ধাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন আমার দাদাকে।

দুরন্ত-দূর্বার, ছুটে চলে অবিরাম, মাঠ-ঘাট প্রান্তর,
পিছনে তাকানোর সময় নেই, শুধুই বিপদ,
রক্ত গরম ঠেকাতে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষন নিয়েছেন যুদ্ধের,
ফিরে এসে বাঁচিয়েছেন হাজারো প্রান, অবলার সম্ভ্রব।
সাহসী পদক্ষেপে যুদ্ধ করেছেন পাকী বর্বরদের বিরুদ্ধে।
হজ্ব করতে গিয়ে যেমন শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা হয়,
তেমনি অস্ত্রের কংকর নিক্ষেপ করেছেন পাকীদের বিরুদ্ধে।
এখন তিনি বৃদ্ধ, হয়তো প্রহরে প্রহরে মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছেন,
তার কামান সম হাত আজ আর কলম ধরতে পারে না।

শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগেই,
তাঁর নাম আব্দুল মালেক,
দেশ স্বাধীন হ্ওয়ার পর নাম হয়েছে মুক্তি মালেক,
তিনি শুধু আমার গ্রামেরই না,
সারা দেশের গর্ব, সারা দেশের অহংকার।

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

ভাবনাহীন কল্পনা

কবি : মো: ইয়াকুব আলী
 
আমিতো বিজ্ঞানের কিছুই জানিনা,
কি লিখবো আজ।
দুই মিনিট ভাবি তো তিন মিনিট ঝিমাই।
সব চেয়ে বড় কথা হলো,
আমাদের দেশে তো বিজ্ঞানের বলার মত কিছুই নাই।
তাহলে আমার চিন্তা শক্তি এর মধ্যে হাটু গেরে বসবে কেমন করে।
কত কিছুইতো হতে হতে হলো না,
এখন দেখা যাক ”বঙ্গবন্ধু-১” হয় কি না,
নাকি এইটাও ফাঁকি দেয়।
এই ফাঁকির দেশে বিজ্ঞানও ফাঁকি খায়,
আর আমরা তো সাধারন মানুষ,
ফাঁকির মধ্য দিয়েই যাতায়াত।
তবে আমাদের দেশে যে কয়জন বিজ্ঞানী আছেন,
তাঁরা যদি এই ফাঁকিটাকে কিভাবে বিজ্ঞানে কাজে লাগানো যায়,
সে চেষ্টা করতো,
তবে মনে হয়,
ফাঁকিবাজি ‍অনেকাংশে বৈজ্ঞানীক রূপ লাভ করত।
যা হতো পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম।
বিজ্ঞান হচ্ছে এক ধরনের জ্ঞান, আর
মনের মধ্যে কিঞ্চিত আল্পনা হচ্ছে কল্পনা।
সেই সুবাদে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলো,
কল্পনার জগতে বিজ্ঞানকে নিয়ে লীলাখেলাই হলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী।

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১২

এক টুকরো চাওয়া

তুমি আমায় এত ভালবাস!
অথচ আমি আজো তোমার একটু ভালবাসা পেলাম না,
তুমি সত্যিই রহস্যময়ী।

আমার নয়ন দুটি এগিয়েছে বার বার,
ছুতে চেয়েছে তোমার চাহনীকে,
নিতে চেয়েছে মায়া পরশ,
কিন্তু তুমি ফিরিয়ে দিলে বার বার,
কি আজব কারবার!
এত ভালবাস!
অথচ আমি দেখতেই পেলাম না,
তোমার চোখের পাতায় আগুন ঝরছে, নাকি বৃষ্টি ঝরছে।

তবে কি, মুখের বুলিতেই তোমার এত ভালবাসা?
তুমি পারও বটে,
শত মাইল দূরের অজানা স্মৃতি,
তবু মনে হয় কত কাছে, কত আপন,
চাঁদের হাসিটি অধরাই রয়ে গেল,
থেমে গেল রহস্যময়ী নারীর ভেসে আসা আর্তচিৎকার।

বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১২

মনের কথন

সে আমায় বারন করে না যেতে ঐ সুরের টানে,
সে সদাই লেপন করে কালিমা তার দেহের বানে,
সে তো আর জানেনা ঐ সুর যে আমার কত আপন,
জানিলে করবে না আর সুরের কাছে যেতে বারন।

সুরেতে মন মজিয়ে ঘর ছাড়িলাম সেই যে কবে,
কত যে কটু কথার ভাগি হলাম সুরের ভবে,
তবু সেই সুর যে আমায় যায় না ছেড়ে এক প্রহরও,
পারি না ছাড়তে আমি সে যে আপন এই আমারও।

পাগলের পাগলামিটা দিনে দিনে যাচ্ছে বেড়ে,
পাগলে আর কত কাল থাকবে পথে স্বজন ছেড়ে,
একেতো সুরের পাগল সুরের মাঝেই সুখের বাড়ি,
সুরেতেই খুঁজবো স্বজন আপনার স্বজন ছাড়ি।

রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১২

ভেলু ফুফু

পাশের বাড়ির ভেলু ফুফু বয়স ষাটের কাছে
চলন বলন সরল সোজা সব মানুষের কাছে।
দিন অবধি কাজ করে সে নেইকো দেহের টান
সবার কাজেই দেয় সাড়া সে ‍ভুলে নিজের মান।
কখনো কেউ বকা দিলে ফেল ফেলিয়ে হাসে
বলতে শুনি, ”বকা দিছে আমায় ভালবেসে”।
নিজের ঘরে রান্না নেই তো পাশের বাড়িত গিয়ে
খাবার দাবার খেয়ে আসে কাজের বিনিময়ে।
সব মানুষই আপন তাহার মানুষও তাই ভাবে
ভাল মন্দ যে যাই করুক তাকে দিয়েই খাবে।
সরল মনের মনটাতে তার নেইকো ভাবের লেশ
পরের উপকারেই তাহার জীবন করছে শেষ।
ভেলু ফুফুর ভালবাসায় নেইকো ছলের রস
এই কারনে সবাই তারে মানিয়াছে বশ।
এমন সরল এই জগতে দেখিইনাকো আজ
বেঁচে থাকুক সবার মাঝে হয়ে মাথার তাজ।

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

হাপিত্যেশ


আলোর মাঝে আধার আমি তোমার চলার পথে
নাই বা যদি ভাল লাগে থেকো না মোর সাথে।
চাঁদের আলোয় ঘেরা তোমার ভাবি জীবন তাই
গুটিয়ে নিলাম নিজের চাওয়া তোমার ভালোর লাই।
সুখে থোকো ময়না পাখি ঐ সে দুরের গায়
ক্ষমা যদি না দেও আমায় থাকবো যন্ত্রনায়।
অনেক দিনের সাধ ছিল মোর দেখবো নয়ন ভরে
সেটাকেও দিলাম ‍ছুটি তোমার সুখের তরে।
জানিনা আর কতটা দিন ভাবের হবে মিল
কতটা আর দু:খ পেলে রংটা হবে নীল।

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

যখন

যখন,
দখিণা পবনে মন
খুঁজে ফিরে তোমার সন,

তখন,
শ্রাবন গগন মেঘ
ডেকে বলে এইতো শোন।

তোর কারনে মেঘ হয়েছে,
রিমঝিম ঝিম সুর তুলেছি,
তোর সুখেরই জন্যে আমি
বৃষ্টি রূপে তাল তুলেছি।

যখন,
ফুল বাগানে গিয়ে মন,
ভ্রমর সেঁজে করে পন।
তখন,
ফুল এলিয়ে বলে শোন
তোর জন্যইতো গড়ছি বন।

যখন,
নদীর তীরে ছুটে যাই
নদী বলে শোনরে ভাই
আঁকাবাঁকা আমার পথ,
তোর প্রিয়ার তুলনা নাই।

বলে,
যৌবন আমার রঙ্গে রসে
পূর্ন থাকে আষার মাসে,
মরা খালেও ভাসি আমি,
চৈত্র মাসে পূর্ন ঘাসে।

যখন,
পাখির কাছে গিয়ে বলি,
পাখিরে মোর মনের কলি,
গা না একটা গান।

তখন,
পাখি বলে অ-বড় ভাই,
তোমায় একটা কথা শুধাই,
গান শুনিতে চাইলে তুমি
শোন গিয়ে প্রেমের শানাই।