আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
Bangladesh
M.A. in English Literature under National University. My Home District in Comilla.

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৪

ভূত-ভবিষ্যৎ



তোমার বুকে আছড়ে পড়ুক বিজলী রেখা,
শক খাবে রোজ আমার হৃদয়,
দিনে রাতের ঝাপসা আলোয়,
লম্ব-প্রস্থ বাদ যাবে না একটু দেখা।

শরৎ কালের বর্ষা রাতে জমবে খেলা,
ঝুম বরষায় স্তব্ধ শহর,
আমরা দু’জন রাত নিশাচর,
রিদম তুলে বৈঠা ঠেলে চলবে ভেলা।

তাক লাগানো সুঠাম দেহের ঝলমলানি,
সৌর্য়ে-বীর্যে ঋষ্ট-পুষ্ট,
দমে দমে হবো তুষ্ট,
কোমল দেহের সরল নালায় জমবে পানি।

ভাবনা গুলো মিষ্টি যত,
কাছে পাবার আর্তি তত,
তপস্যাতে মগ্ন আমি ছুঁইবার আশে।
মন আকাশের রংধনুটা,
দিচ্ছে মেঘে রংয়ের ছটা,
আজ বা কি কাল আসবে ঠিকই আমার দেশে।

তখন আমি থাকবো না আর দৃষ্টি কুলে,
বন্ধ হবে সদর দুয়ার,
বাড়বে মনে প্রেমের জোয়ার,
যুদ্ধ হবে জগৎ ভুলে হেলে দুলে।

২৫.০৮.২০১৪

শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০১৪

অবহেলিত লিংক রোড


রোজ বিকেলে সাক্ষী এক জোড়া চোখ,
ভ্যাপসা গরমের সাথে যোগ হয় ইঞ্জিন আর নি:শ্বাস,
দেহের সাথে দেহের উষ্ণ আলিঙ্গন গরমকে আরো বাড়িয়ে দেয়,
ঠাসাঠাসি করে ভিতরে ঢুকেই রাজ্য জয়,
তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তিন জোড়া ট্রাফিক পুলিশ,
ভাব দেখে মনে হয় যেন এই লাইন তাদের সৎ ছেলে,
সবাইকে তিন বেলা আর তাকে এক বেলা।
কিছুতেই ছাড়তে চায় না তারা,
সামনের লাইন ক্লিয়ার, তবে বাধা কোথায়?
অনেক পরে যদি ছাড়েও তবে হাতে গোনা কয়েকটা,
আবার বন্ধ, আবার বেড়ে চলে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা,
কখন ছাড়বে গাড়ি, কখন ফিরবে সবাই,
ঘামের পরে ঘাম,
একেক জনের শরীর যেন কৃত্রিম ছোট ঝর্ণা।



২৩.০৮.২০১৪

সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৪

মিষ্টি কলিগ



হাটছে রোজ চতুর্পাশ সাতে পাচঁ দিন,
দেখছি তার ডাগর চোখ ডর-ভয় হীন,
সারাদিন যায়, বস ফাঁকি খায়,
চোখাচোখি চলে হরদম,
ভাষা খুঁজেছি, আমি বুঝেছি,
এর বেশি পেতে সাধ কম,
সে আমার মিষ্টি কলিগ,
তার লাজুক মাখা দু’কদম।


ঠোটে হাসি খুব তার ভাল ট্রেডমার্ক,
খোচা থেকে দূরে থাকি হাসি টুকু থাক,
এমনিতে রোজ তার নেই শুধু খোঁজ,
বাড়াবাড়ি হলে হবে যম,
ঝোপ বুঝে তাই, তার চোখ পানে চাই,
ধরা খেলে কপালেতে বোম,
সে আমার মি্ষ্টি কলিগ,
তার লাজুক মাখা দু’কদম।

সারাদিন খুব কম কথা তার মুখে,
টুকটাক যাই হয় চোখে চোখ রেখে,
বুদ্ধিতে গুড, তাই ধরে থাকে মুড,
কিছুতেই নয় সে অধম,
কত নানা ছলে তাকে কত কিছু বলে,
তবু সে পায় না শরম,
সে আমার মিষ্টি কলিগ,
তার লাজুক মাখা দু’কদম।

১৮.০৮.২০১৪

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৪

ব্যাস্ত স্ংসার



উড়াল সড়কের নিচে তাদের ব্যাস্ত সংসার
ছোট্ট শিশুটি মায়ের বুকে দাপাদাপি করছে
খঞ্জনি হাতে বাবার সারা দিন রাত পার
ব্যাস্ত সড়কের দুই পাশে গাড়ি গুলো ছুটছে।
খোলা আকাশটাই যেন তাদের বিশাল ছাউনী
সাথে একটি কুকুর আর দুটি ছাগল ছানা
চিন্তার বলি রেখা আজো তাদের স্পর্শ করেনি
এ সব কিছুই তাদের বেঁচে থাকার প্রেরনা।
কালো আর লাল পিপড়ারা পায়ের সাথে ঘুরে
যেন বলে বেড়ায় আজ উভয়ের একই মর্যাদা
ফেলে দেয়া খাবার গুলোই আসে দু’জনের ঘরে
গাড়ির কালো ধোঁয়া তাদের উষ্ণ  পরিধা।
মশক বাহিনীর উৎপাত চলে সারা দিন রাত
স্যাৎস্যাতে কাঁথা গুলো ছারপোকার শান্ত নিবাস
জটলা চুলে উঁকুনের নিবাসে চলে নখের আঘাত
তবুও তারা একে-অন্যের, এক সাথে বসবাস।

১৬.০৮.২০১৪

বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০১৪

ভুলভাল

তুমি উপরে,
টিনের চালে রিমঝিম রিমঝিম,
আমি কাদা গায়,
ধুয়েছ আমায় ধীরে ধীরে সারা দিন,
আমি যাব না দূরে,
তোমায় ভুলে এ গাঁও ছেড়ে আর,
ফড়িংয়ের দল,
যতই উড়ুক সকাল-বিকাল,
তুমি নিলাজ ঠোটের মত,
ছুঁইবে আমায় যত,
ততই বাড়ুক টুপটাপ,
সুরসুরি দিয়ে ঐ,
বৃষ্টি ঝড়ে যতই,
তোমাতে-আমাতে বাড়ে তাপ,
আমি নিশ্চুপ,
নির্ভয় তোমার বাড়ি…………..
             
০৬.০৮.২০১৪

রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৪

অনুরোধ

আমি যেদিন মারা যাব উত্তরের শিয়রে,
ইয়াসিন সূরা পাঠ করিও সবাই একটু জোরে।
কোরআন পড়ো পাশে বসে কলমা দিও কানে,
রূহ কবজ হয় যেন ভাই দিনেরই সন্মানে।
ইচ্ছা গুলো পুরন কইরো ওহে মুমীন ভাই,
এই ধরাতে আমার চাওয়ার আর যে কিছু নাই।
আমি পাপী, পাপে তাপী, পাপের নাইরে শেষ,
আমার দেহে পানি ঢেলে পাপ কইরো নি:শ্বেষ।
কবরেতে নেয়ার কালে,
দরূদ পইরো সবাই মিলে,
খেজুর ঢালা পুতে দিও মাথার উপরে,
একটু শান্তি পাই যেন ভাই মাটির তলে।
শেষ ইচ্ছাটা পুরন করার চেষ্টা কইরো সবে,
রাস্তার পাশে কবর দিলে সালাম পাব তবে।
বেড়া দিও চতুর্পাশে, রাসূল আমার নূর,
নাম ফলকে লিখে দিও ইয়াকুবের গোর।
ইচ্ছা গুলো পুরন কইরো ওহে মুমীন ভাই,
এই ধরাতে আমার চাওয়ার আর যে কিছু নাই।

০৩.০৮.২০১৪