আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
Bangladesh
M.A. in English Literature under National University. My Home District in Comilla.

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০১৫

অস্ফুট চাওয়া

আমি বলছি না যমুনার জল নীল করে দিতে,
আমি বলছি না আকাশের তারা হাতে এনে দিতে,
আমি বলছি না পদ্নার ইলিশ দিয়ে ভরন পোষাতে,
আমি বলছি ধর্তব্য নিরাপত্তাকে হাতের মুঠোয় গুজে দিতে।

আমি চাইনা অট্টালিকার চূড়ায় বসে পা দুলাতে,
আমি চাইনা কোন রাজা হয়ে ছড়ি ঘুরাতে,
আমি চাইনা কোন দ্বীপপুঞ্জে প্রাসাদ গড়ে দিতে,
আমি চাই ধর্তব্য নিরাপত্তাকে হাতে এনে দিতে।

আমি বেঁচে থাকতে চাই পায়ে মারানো ঘাসের মত,
আমি বেঁচে থাকেত চাই কুড়িয়ে খাওয়া শিশুর মত,
আমি বেঁচে থাকতে চাই জীর্নশীর্ন পাখির মত,
আমি ধর্তব্য নিরাপত্তার চাদরে বেঁচে থাকতে চাই।

০২.০৩.২০১৫

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫

বেহায়া



আমি এক বিরুদ্ধ বাতাস তোমার আঁচল উড়িয়ে দেই
তুমি ডান হাতে টেনে ধরো বারবার, কত আদর!
আমি গতি বাড়িয়ে উড়িয়ে দিতে চাই সুদূর আকাশে,
তুমি ইতস্তত নমোনীয়তায় টেনে ধরো তোমার আঁচল,
হয়তো মনে মনে গালি দেও, জানোয়ার বলে,
কি করবো বলো,
বাতাস হয়েছি বলে বসন্তে আমিই তোমার প্রেমের বন্ধু,
বাতাস হয়েছি বলে চৈত্রের খরা রোদে আমিই তোমার ছায়া,
বৈশাখে আমিই উড়িয়ে নিই তোমার টিনের চাল।
তুমি আসবে বলে আমি মৃদু তালে বই,
তোমার উড়ন্ত চুলে আমি মিশে যেতে চাই এক নিমিশে।
তুমি কি আমায় চিনতে পারো না?
এইতো আমি, পিছনে ডানে তাকাও,
তোমার চুল ধরে উড়ছি ঢেউয়ের তালে।
এত সুন্দর, এত ঝলমলে!
অথচ তুমি ঢেকে রাখো সব আঁচলের তলে।
আমি ভালবাসি চুল,
তাই বাতাস হয়েছি উড়াবো বলে,
তুমি ঢেকে দিতে চাও?
আমি উন্মাদ হয়ে উড়িয়ে দেব তোমার আঁচল।

০৬.০৩.২০১৫

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৫

ফিরতি আশা

দায় দিব কি তোমার কাঁধে, কিইবা তোমার দোষ,
আমরা যারা পিতৃহারা,
মাতৃহারা সজনহারা,
আমাদের এই বেহাল দশায় আমাদেরই দোষ।

তোমার হাতে ঢোলের কাঠি, তুমিই বাজাও ঢোল,
দিয়েছি তা আমরা তোমায়,
ভাল বাদ্য শোনার আশায়,
সুযোগ পেয়ে তুমি এখন বাজাও নিজের বোল।
ভুল করেছি, ভুল করেছি, ভুল করেছি, ভুল
আমাদের এই করুন দশায় আমাদেরই দোষ।
দায় দিব কি তোমার কাঁধে, কিইবা তোমার দোষ।

বোধের অভাব আমাদেরই, নিশানাটাই ভুল,
নিজের দোষে মরছি পুড়ে,
রাস্তা কিংবা আপন ঘরে,
নি:স্ব হয়ে দস্যু রাজার দিচ্ছি মাশুল।
ভুল করেছি, ভুল করেছি, ভুল করেছি, ভুল
আমাদের এই করুন দশায় আমাদেরই দোষ।
দায় দিব কি তোমার কাঁধে, কিইবা তোমার দোষ।

আশাতে আজ গুড়েবালি, আশায় ভাঙ্গে বুক,
তবু আশা চাইতে আসি,
আশায় খুঁজি আলোর রাশি,
আপন নিবাস পেতে ফিরে আশাতে মশগুল,
আর হবে না, আর হবে না, হবে না আর ভুল,
নতুন আশা বেধেছি আজ ফিরে পেতে কূল।
২১.০১.২০১৫

শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৫

ধোঁয়ানারী



আধুনিকতার রোষানলে বিলুপ্ত নারীর শোভন সৌন্দর্য্য,
বার হাত শাড়ির ব্যাঙ্গ আলখাল্লা হাঁটুর নিচ অবধি প্রায়।
নেকাব পড়া সুন্দর মেয়েটির নিম্নদেশ বহিরাপ্লুত বর্জ্য,
খন্ডকালীন আবেগে ধরাশায়ী সিগারেটের কালো ধোঁয়া।
নাহ! শিকারী চোখ আজ দুর্বল, নাস্তানুবাদ, পর্যুদস্তু,
কোমল ঠোঁটে চেপে ধরা সিগারেটের ফিল্টার হতে ইচ্ছে করে খুব।
খামখেয়ালী ছেড়ে খেকশিয়ালী শোভন সৌন্দর্য্য দৃশ্যমান,
গোলাপের সাথে ডালিয়ার সৌন্দর্য্য ধোঁয়ার আস্তরে বিবর্ন প্রায়।
ধোঁয়া খাওয়া নারীর সৌন্দর্য্য এখনো অটুঁট।
মৌমাছিরা ফিরে যায়, নর তবু বর্তমান।

১১.০১.২০১৫

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

স্বপ্নবোনা ছাইপাশ কবি



স্বপ্নবোনা আতুঁর কবির দিন-রাত কলমে আবদ্ধ।
রেল লাইনের সরল গতিতে কলম চলে অবিরত।
ঝিনুকের বিদ্যা থেকে শুরু করে মহাকাশ বিদ্যা
কলমের বিদ্যায় প্রকাশিত সবই,
কবির অঙ্গুলিত্রয় বিশ্রাম পায় না কোন কালে।
দিন-রাত লিখে যায় কবিদের দল,
শশ্মান চিনে না, শাষন বুঝে না,
আপন উদ্যোগে লিখে নিজের ব্যাক্তিজীবন।
ভালোর ধার ধারেনা ছাইপাশ কবি,
মন্দও উপেক্ষিত স্বপ্নের কলেবরে,
স্বপ্নবোনা ছাইপাশ কবি তবু স্বপ্ন দেখায় সুন্দর আগামী দিনে।

০১/০১/২০১৫

শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৪

ব্যস্ততার অবসান

বয়স বেশি নয়,
শৈশব পেরিয়ে কৈশরে কেবল,
কে জানে এমন ছোবল,
কেড়ে নেবে তার দুরন্তপনা।
স্কুলের মাঠে ছোটাছুটি করা
সবার আপন,
চিকন লিকলিকে ছেলেটি,
আজ আর নেই,
চলে গেছে অসীম অন্ধকারে,
এক টুকরো কাপড়ে,
শুয়ে আছে নিরব নিথরে,
আর আসবে না ফিরে।
মাঠের ব্যাস্ততা সেই আগের মত,
ক্রিকেট, ফুটবল, মারবেল খেলা সব আছে,
শুধু সুমন নেই এসবের ভীড়ে।
২৬.১০.২০১৪

বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৪

অলস কবি


শকুঁনের দৃষ্টিটা দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়েছে
সে আর দূর থেকে মৃত পশুর নিথর দেহ দেখতে পায় না।
ঈগলের ধারালো নখ ভোতা হয়েছে প্রায়
খামছে ধরা শিকারটা পিছলে যায় অনায়াসে।
বাজ পাখির ছোবল থেকে বেঁচে যায় মুরগীর বাঁচ্চাগুলো
বেজি গুলো সাড়ি বেধে জনতার কাতারে,
খেতে চায় দুধ, ডিম, পাওরুটি আর ড্রাই কেক,
স্বাভাবিক জীবন থেকে বেড়িয়ে আসা কি একটা অভ্যাস?
কবির খামখেয়ালিপনায় অলস হয়ে পড়েছে খাতা-কলম,
তাদের জড়িয়েছে ধূলারা,
প্রাসাদ গড়ে ঘুমাচ্ছে খুব আরমে,
তাড়িয়ে দেয়া কবির অলস দৃষ্টি তাদের এড়িয়ে চলে।
হাঁটতে হাঁটতে প্রেম করা কবির স্বভাব,
হাঁটতে হাঁটতেই কবিতা রচনা করে প্রিয়ার চোখে,
অলস মেয়েরা এখন আর জুব্বা পড়ে না,
শর্টস, স্কার্টসই তাদের প্রধান উপজীব্য পোশাক,
অলস ছেলেরা তিন মাস পর পর কাপড় ধোয়,
অলসতার দোহাই দিয়ে কাজে মন দেয় না,
শুধু বসে বসে সুন্দরীদের অবলোকন করে,
অলসতা এখানে হার মেনেছে।
কবি আজ অলস,
সে হারিয়েছে তার চিন্তার প্রখরতা,
মনে তার আড়ষ্ট ভাব,
তিন আঙ্গুলে ধরা অস্রটি খসে পরে অলসতায়,
বাম পাশে বসা সুন্দরী কবির দৃষ্টি খায়,
আর ডুবিয়ে দেয় অলসতার বিশাল সাগরে।


২৩ অক্টোবর ২০১৪
ঢাকা